বীরভূম : ধন দেবী মহালক্ষ্মী

প্রাচীনকালে এক রাজা মৃগয়া শিকারে একচক্রার বনে প্রবেশ করলেন । এসময় চলছে অগ্রহায়ণ মাসের মাঝামাঝি।  বনে সারাদিনমান  কোনো মৃগয়া দেখতে পেলেন না। মৃগয়ার সন্ধানে বনে বনে ঘুরে রাজার শরীর ক্লান্ত ক্ষুধার্ত। তেমন কিছু খাবারও কপালে জোটেনি। এদিকে এখন গোধূলিবেলা কিছুক্ষণের মধ্যেই বনে-জঙ্গলে ঘন আন্ধার নেমে আসবে। রাজা করলেন কী। বনের এক প্রান্তে সমতল মতো একস্থানে রাতে বিশ্রামের জন্য ব্যবস্থা নেন।  রাজা নিজের বিশ্রামের ব্যবস্থা করা হয়ে গেলে, একটু গা-গরা দিতেই সঙ্গে সঙ্গেই ঘুমিয়ে পড়লেন। 

আলোকচিত্রী- শ্যামচাঁদ বাগদি

অভুক্ত রাজার হঠাত্ রাতে ঘুম ভেঙে গেল।  কেন এমন হলো রাজার ? রাজা উঠে বসলেন।তখনো ফুড়ফুড়ে বাতাসে সুন্দর একটা অচেনা গন্ধ ভেসে যাচ্ছে। দু-চোখ মেলে দেখতে থাকলেন প্রাকৃতিক জ্যোত্স্নার আলোয় বনের সমস্ত কিছু  স্বচ্ছ দেখা যাচ্ছে। রাজা সুগন্ধের সন্ধানে কিছুটা দূর যেতেই দেখলেন---- সুগন্ধযুক্ত পাকা ধান বনের একপ্রান্তে প্রকৃতির খেয়ালে আপনাআপনি জন্মে, তাও আবার তুষহীন। রাজা সেই চাল খেয়ে অভুক্ত জীবনকে বাঁচালেন।


আজও রাজার সেই স্বর্গীয় চালের প্রতীক রূপে চালের গাই দেখা যায়।  কোথায় আবার।বীরভূম জেলার ঘোষ গ্রামে মহালক্ষ্মীর মন্দিরে। দেবী পূজার সময় চালের গাই  ভক্তগণ দর্শন করেন।  

আলোকচিত্রী- শ্যামচাঁদ বাগদি

ঘোষ গ্রামে মহালক্ষ্মী দেবীর দারুমূর্তিটি এরূপ দেখলাম---- দেবী দ্বিভূজা । গৌরবর্ণা ।নানান অলঙ্কারে ভূষিতা। শ্বেত পদ্মাসনে আসীনা। দেবীর বাম পদের পাশে ধনপতি কুবের। দেবীর ডান পদের পাশে ধনদেবী শ্রীলক্ষ্মী বিরাজমান। দেবী মহালক্ষ্মী ধনপতি কুবেরকে চালের গাই ধনভান্ডার দান করতে দেখা যাচ্ছে।


প্রত্যেক বছর ঘোষগ্রামে পৌষ মাসের চার বৃহঃস্পতিবার, অর্থাত্ পৌষের প্রতি বৃহঃস্পতিবার দেবী মহালক্ষ্মীর মহাপূজা উপলক্ষ্যে গ্রামীণ বেশ বড় মেলা বসে। 

Comments

Town Tarapith Rampurhat

আঞ্চলিকতাই আন্তর্জাতিক দর্পণ ।। ড. সুরঞ্জন মিদ্দে । 'রামপুরহাটের ইতিহাস' গ্রন্থটি আঞ্চলিক ইতিহাস চর্চার আদর্শ উদাহরণ।

গ্রন্থালোচনা : রামপুরহাটের ইতিহাস, দক্ষিণের কড়চায় প্রকাশ । ---সবকিছুরই খুঁটিনাটি রয়েছে বইতে। কাঞ্চিদেশ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত বইটিকে এক কথায় রামপুরহাট পরিক্রমা বলা যেতে পারে।

শহর রামপুরহাট বীরভূমের একটি উল্লেখযোগ্য স্থান ।। ড. বীরেশ্বর সিংহ ।। শ্যামচাঁদ বাগদি তার রামপুরহাটের ইতিহাস গ্রন্থে এই শহরকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে চিত্রিত করেছেন । এই গ্রন্থটি রামপুরহাটের সামগ্রিক বিষয়ে একমাত্র এবং প্রথম গবেষণা গ্রন্থ ।

বাসন্তী দেবী এবং মহিষাসুর-বধ দেবী রূপ এক নয় । 'দুর্গা মহামায়া' প্রভাবেন । মহালয়া বিষয়ে তথ্যঋদ্ধ লেখাটি লিখেছেন অবসরপ্রাপ্ত সংস্কৃত শিক্ষক অনাথবন্ধু ভট্টাচার্য্য মহাশয় । । বাসন্তী পূজার উদ্ভবই মূল দুর্গোত্সব ।

আঞ্চলিক ইতিহাস রচনার গুরুত্ব অপরিসীম ।। ড. অনিমেষ চট্টোপাধ্যায় । আঞ্চলিক ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে শ্যামচাঁদ বাগদির রামপুরহাটের ইতিহাস এক উল্লেখযোগ্য সংযোজন ।

মহারাজ নন্দকুমারের রাজবাড়ি ভদ্রপুর